মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ও চা বাগানের সড়কগুলো দেড় বছর ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। দেড় বছর ধরে অবহেলিত এসব রাস্তা দ্রুত সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। এখন দেখার বিষয় কবে নাগাদ শুরু হয় সংস্কার কাজ, আর কবে ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন মৌলভীবাজারের গ্রামের ও চা বাগান এলাকার মানুষ।
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, বৃহত্তর সিলেটের মাটি-মানুষের নেতা মরহুম এম সাইফুর রহমান সিলেট বিভাগ সহ মৌলভীবাজার জেলার উন্নয়নে মনযোগ দেন। সরাকারি অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি ওই সময়ে পুরো জেলায় গ্রামীণ জনপদের রাস্তা ঘাটের অভুতপূর্ব উন্নয়ন করেন।
কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জুড়ে ভাঙাচোরা আর খানাখন্দ ভরা। দেড় বছর যাবত এসব সড়ক সংস্কার কিংবা মেরামত হয়নি। একযোগ আগেও যে সড়কগুলো ছিলো পিচঢালা মসৃণ। এখন বেশিরভাগ সড়কে ভাঙাচোরা আর ক্ষতচিহ্ন। অনেক জায়গায় ইট-সুড়কি পর্যন্ত উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত।
সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, সদরের নাজিরাবাদ ইউনিয়নের দিঘিরপাড় হয়ে গোবিন্দপুর সড়কটির বিভিন্ন অংশ একেবারেই ভাঙাচোরা, গিয়াসনগর ইউনিয়নের মাড়কোনা থেকে গোবিন্দপুর সড়কটিও চলাচলের একদম অনুপযোগী, দিঘিরপাড় বাজার থেকে আমতৈল ইউনিয়ন হয়ে কাগাবালা সড়কটিও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত। জেলার সবমিলিয়ে ও উপজেলার বেশিরভাগ সড়কের বেহাল অবস্থা। মৌলভীবাজার জেলার ভাঙাচোরা সড়কের প্রায় ১৫-২০ ভচর ধরে কোন উন্নয়ন হয়নি । অন্তর্বতী সরকার আমলে রাস্তাঘাটের কোনো কাজ হয়নি।” ।
এলজিইডি মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় এলজিইডির মোট গ্রামীন সড়ক রয়েছে ৫১৪৬.৬ কিলোমিটার সড়ক পথ। তবে পুরো জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ভাঙাচোরা সড়কে সঠিক পরিসংখ্যানের তথ্য তাদের কাছে নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,“৭১ বছর বয়সী “আমাদের সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সাহেব জীবিত থাকাকালে এই এলাকার অনেক রাস্তাঘাট নির্মাণ করে গিয়েছিলেন। “গ্রামের অধিকাংশ রাস্তাই এখন চলাচলের অযোগ্য। অনেক এলাকায় গাড়ি ঢুকতেই পারে না। বিশেষ করে চা বাগান এলাকার সড়কগুলো একেবারেই দুর্গম হয়ে আছে। “আমাদের ব্যবসার কাজে প্রতিদিন এই গ্রামের রাস্তাগুলো ব্যবহার করতে হয়। “বর্তমান সরকার যদি আন্তরিকভাবে নজর দেয়, তাহলে চা বাগান ও গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়ন সম্ভব। বহুবার শুনেছি ‘আজ কাজ শুরু হবে, কাল কাজ হবে’, কিন্তু বাস্তবে কোনো উন্নয়ন চোখে পড়ে না। শুধু আশ্বাসই মিলছে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।”
১০ নং নাজিরাবাদ ইউনিয়নের ৮ নং ওর্য়াডে পরিষদের ইউপি সদস্য শেখ মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর বয়স এখনো ৩৫-৩৬ বছর, তরুণ বয়স থেকেই তিনি মৌলভীবাজার সদরসহ জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ঘুরেছেন। তাঁর দাবি, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান-এর সময় বহু গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর থেকে জেলার অনেক গ্রামীণ সড়ক ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে।
প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মেইনটেন্যান্স স্কিম হাতে নিয়েছি। সব মিলিয়ে কাজগুলো বর্তমানে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৮৯টি স্কিমের কাজ শুরু হয়েছে এবং ৩৩টি স্কিম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি স্কিমগুলোর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :