ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মিঠামইনে বেড়িবাঁধের গাছ কাটায় মামলা, প্রকৃত ঘটনা আড়ালের চেষ্টা, উপজেলা বিএনপির সভাপতির সকল পদ স্থগিত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

মিঠামইনে বেড়িবাঁধের গাছ কাটায় মামলা, প্রকৃত ঘটনা আড়ালের চেষ্টা, উপজেলা বিএনপির সভাপতির সকল পদ স্থগিত

ছবি: বর্তমান বাংলাদেশ।

 কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে রোপণ করা প্রায় ১২টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বাদি হয়ে মিঠামইন থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আঙ্গুর মিয়া নামে একজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রকাশ্যে দিবালোকে গাছ কেটে ফেলা হলেও চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ঘটনা ও প্রকৃত দোষীকে আড়াল করার পায়তারা করা হচ্ছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তবে এ ঘটনায় মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনা জানার পর ‍‍`স‍‍` মিলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আঙ্গুর মিয়া নামে এক ব্যক্তি গাছগুলো ‍‍`স‍‍` মিলে নিয়ে এসেছিল। তাই তাকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছি। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে গাছ কেটে নেয়া হলেও চুরির অভিযোগে কেনো মামলা দায়ের করা হয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়েতো আমার অভিজ্ঞতা নাই তারাই (পুলিশ) তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবে কেনো এটা হইছে। তাকে জিজ্ঞেস করতে পারলে জানা যাইতো আর কে কে জড়িত। এখন পুলিশ খোঁজ বেড় করবে কার নির্দেশে আঙ্গুর মিয়া এই কাজ করেছে। আঙ্গুর মিয়া যদি এরেস্ট হয়ে যায় পুলিশ ধইরা বাড়ি দিলেইতো ধুমধাম বেড় হয়ে যাবে।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উপজেলা প্রকৌশলী বাদি হয়ে একজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্ত চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য থাকাকালীন এলাকায় নদীভাঙন ঠেকাতে এই বেড়িবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই গাছগুলো এলাকার পরিবেশ ও বাঁধ রক্ষায় বড় ভূমিকা রেখে আসছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে বাঁধের ওপর দিয়ে যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে একে একে গাছ কাটা শুরু করেন। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করে গাছের গুঁড়ি কেটে ফেলা হয় এবং পরে সেগুলো সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, আমি কাটবো কেন? আমার দরকার আছে কাটার? আন্তাজি আলাপ করে। জায়গা ও গাছগুলো সরকারি না। প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে গাছ কেটে নিয়ে গেছে। বেড়িবাঁধ সরকারি না অধিগ্রহণকৃতও না।

বর্তমান বাংলাদেশ

Link copied!