ঢাকা শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মৌলভীবাজারে ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মিত হয়নি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১০:০০ পিএম

মৌলভীবাজারে ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মিত হয়নি

ছবি: বর্তমান বাংলাদেশ।

মৌলভীবাজার জেলায় ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মিত হয়নি। মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘনিয়ে আসলেও এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সাময়িক কাঠামো তৈরি করে কিংবা পাশের কোনো প্রতিষ্ঠানের শহিদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ফলে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অনেক শিক্ষার্থী নিজ প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ১ হাজার ৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৪৮টিতে শহিদ মিনার রয়েছে। বাকি ৬০৩টি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী শহিদ মিনার নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও ভাষা দিবসকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সীমিত আয়োজন হয়েছে। তবে স্থায়ী শহিদ মিনারের অভাব স্পষ্ট। জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতেই শহিদ মিনারের অভাব বেশি। এতে ভাষা আন্দোলনের চেতনা শিক্ষার্থীদের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়রা জানান, শহিদ মিনার না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে কলাগাছ, বাঁশ ও কাগজ দিয়ে প্রতীকী মিনার নির্মাণ করে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের স্মরণ করা হয়। আবার কিছু শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানের শহিদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবি, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে দ্রুত সব বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হোক।
এক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক বলেন, “শহিদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। শিক্ষার্থীরা যদি নিজ বিদ্যালয়েই শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারে, তাহলে তাদের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনা আরও গভীরভাবে গড়ে উঠবে।”
কমলগঞ্জ উসমানগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরি দে জানান, তাদের বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শহিদ মিনার নেই। আবেদন করা হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি। একটি স্থায়ী শহিদ মিনার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম বলেন, জেলার প্রায় অর্ধেক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার অনুপস্থিত। এ বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণের দাবি জানানো হবে।

বর্তমান বাংলাদেশ

Link copied!