নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর নাটোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা। বিশেষ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও নাটোরের আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু মন্ত্রিপরিষদে স্থান না পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা, ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় আড্ডায় এ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরছেন।
নাটোর শহরের সুগার মিল এলাকার গৃহবধূ তাহমিনা আক্তার বলেন, “দুলু ভাই দীর্ঘদিন ধরে নাটোরের মানুষের পাশে আছেন। আমরা ভেবেছিলাম তিনি এবার মন্ত্রী হবেন। তিনি মন্ত্রী হলে এলাকার উন্নয়ন আরও এগিয়ে যেত।”
নলডাঙ্গা উপজেলার বাঁশিলা গ্রামের বিএনপি নেতা কাজী শফি বলেন, “দুলু ভাই দলের জন্য বহু বছর ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁর মতো অভিজ্ঞ নেতাকে মন্ত্রিসভায় রাখা হলে দল ও দেশ দুটোই উপকৃত হতো।”
শহরের কানাইখালী এলাকায় এক অটোরিকশা চালক আইনুল হক বলেন, “দুলু ভাই দীর্ঘদিন ধরে নাটোরের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। আমরা আশা করেছিলাম তিনি মন্ত্রী হবেন। তাহলে নাটোরের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হতো। তাকে মন্ত্রিসভায় না রাখায় আমরা সাধারণ মানুষ কিছুটা হতাশ।”
বাঁশিলা গ্রামের কৃষক জহিরুল ইসলাম টিয়ারুল ও মাসুম মোল্লা বলেন, “আমরা গ্রামাঞ্চলের মানুষ উন্নয়নের সুফল চাই। দুলু ভাই মন্ত্রী হলে কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামোতে আরও কাজ হতো বলে আমাদের বিশ্বাস।”
সমাজসেবক অনিক তালুকদার বলেন, “রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত দলীয় বিবেচনায় হয়। তবে নাটোরবাসীর প্রত্যাশা ছিল, দুলু ভাই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন।”
নলডাঙ্গা যুবদলের সভাপতি মামুনুর রশিদ খান বলেন, “দুলু ভাই তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে আমরা রাজপথে থেকেছি। মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি হলে সংগঠন আরও চাঙা হতো।”
জিয়া পরিষদের নেতা আহমেদুল হক চৌধুরী স্বপন বলেন, “দুলু একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতা। জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর অবদান রয়েছে। নাটোরবাসী বিশ্বাস করেছিল, এবারের মন্ত্রিসভায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন। তাঁকে অন্তর্ভুক্ত না করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোবেদনা তৈরি হয়েছে।”
জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী মহুয়া পারভীন লিপি বলেন, “দুলু ভাই শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি দলের তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তাঁর নেতৃত্বে নাটোরে সংগঠন সুসংগঠিত হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, তাঁর অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন হবে।”
নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “দুলু সাহেব মন্ত্রিসভায় থাকলে নাটোরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ অগ্রগতি হতো। তবে আমরা দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।”
নলডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাফিজ বলেন, “নাটোরবাসী দুলুকে নিয়ে যে প্রত্যাশা করেছিল, তা পূরণ হয়নি। আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে দল তাঁর যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করবে।”
জেলা বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান ও সদস্য নাসির উদ্দিন নাসিম বলেন, “নাটোরে দুলু ভাইয়ের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। আমরা বিশ্বাস করি, দল তাঁর অবদান বিবেচনায় রাখবে।”
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “দুলু ভাই দীর্ঘদিন কারাবরণসহ নানা ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা মন্ত্রিসভায় কাজে লাগানো যেত। তবুও আমরা দলের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ আছি। ভবিষ্যতে তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।”
নাটোর পৌরসভার সাবেক মেয়র শৈখ এমদাদুল হক আল মামুন বলেন, “রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত সবসময় প্রত্যাশা অনুযায়ী হয় না। তবে নাটোরের জনগণের যে আবেগ ও প্রত্যাশা ছিল, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।”
জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহীন বলেন, “দুলুকে মন্ত্রিসভায় না রাখায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, দলের উচ্চপর্যায় ভবিষ্যতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে।”
মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া নিয়ে নাটোরে রাজনৈতিক আলোচনার ঝড় বইলেও অধিকাংশ নেতাকর্মী দলীয় ঐক্য অটুট রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। তারা বলছেন, ব্যক্তিগত প্রত্যাশার চেয়ে দলের বৃহত্তর স্বার্থই সবার আগে। একই সঙ্গে নাটোরবাসীর আশা—ভবিষ্যতে জেলার প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালীভাবে নিশ্চিত হবে এবং অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :