ঢাকা সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

হোমিও ওষুধের আড়ালে মাদক ব্যবসা, দুই পৃষ্ঠপোষককে গ্রেপ্তারের দাবি এলাকাবাসীর

শামীম সিদ্দিকী

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

হোমিও ওষুধের আড়ালে মাদক ব্যবসা, দুই পৃষ্ঠপোষককে গ্রেপ্তারের দাবি এলাকাবাসীর

ছবি সংগৃহীত

ছবি- মানিক তালুকদার ও সুমন মাহমুদ শেখ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে হোমিও ওষুধের আড়ালে এক যুগের বেশি সময় ধরে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। 
ইতিমধ্যে এই চক্রের মূল হোতাসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার হলেও প্রধান দুই সহযোগী মানিক তালুকদার ও সুমন মাহমুদ শেখকে আটকের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

গতকাল শনিবার দুপুরে গোপন সংবাদে মোহনগঞ্জ পৌরসভার নওহাল এলাকায় টাঙ্গাইল ট্রান্সপোর্ট নামক একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন। সেখান থেকে হোমিওপ্যাথিক ওষুধের বোতলে থাকা ১৬০ বোতল অবৈধ রেক্টিফাইড স্পিরিট জব্দ করা হয়। 
এসময় ট্রান্সপোর্টের ম্যানেজার মো. আবুবকর ছিদ্দিক ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. সুজাত মিয়াকে আটক করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যে শহরের তুলাপট্টি থেকে ভুয়া হোমিও চিকিৎসক বকুল চন্দ্র সরকারকে আটক করা হয়। এসময় তার ওষুধের গুদাম থেকে ১২৬ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিট জব্দ করা হয়।  সব মিলিয়ে ২৮৬ বোতল স্পিরিট জব্দ করা হয়।

আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে মাদক ব্যবসার সহযোগী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মানিক তালুকদার ও তার বন্ধু সুমন মাহমুদ শেখের নাম জানিয়েছে।  বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 
সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান- জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুইজনেট নাম পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, হোমিওপ্যাথি ওষুধের আড়ালে এক যুগের বেশি সময় ধরে মাদকের ব্যবসা করছেন বকুল চন্দ্র সরকার। হাওরাঞ্চলে এসব মাদকের চাহিদা বেশি। ট্রান্সপোর্টের লোকজনকে ম্যানেজ করে বেনামে এসব মাদক নিয়ে আসতেন বকুল। প্রতি সন্ধ্যায় মানিক তালুকদার ও সুমন শেখসহ তার ব্যবসায়ী পার্টনাররা দোকানে আড্ডা দেয়। ওই দুইজন তাদের সামাজিক পরিচয় ব্যবহার করে হাওরাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে এসব মাদকের গ্রাহক ও ডিলার নিয়োগ করেন বলে জানা গেছে।

মোহনগঞ্জ পৌরশহরের তুলাপট্টি এলাকার এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করে বলেন, গতবছর দুর্গাপুজার সময় সুমন মাহমুদ শেখ পোলাপানের কাছে এই মাদকগুলো বিক্রি করছিলো। আমি এতে বাধা দিয়ে বললাম- সমাজের মানুষ আপনাকে কবি হিসেবে জানে অথচ বিক্রি করছেন মাদক। তখন আমাকে জিহ্বা কেটে ফেলার হুমকি দেয় সুমন। আশপাশের দোকানের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে সব জানা যাবে বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ীর তথ্য মতে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগের ওপরে মাদকের কারবার করে আসছেন বকুল। তিনি একা নয় আরো অনেকেই রয়েছেন এই কারবারে জড়িত। তার পেছনে প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকায় তুলা পট্টির অন্য দোকানদাররা এ ব্যাপারে তাকে কিছু বলার সাহস দেখাতে পারেনি।

স্থানীয় সংবাদকর্মী চয়ন চৌধুরী বলেন, সমাজ থেকে এসব মুখোশধারী দূর করা উচিত। সমাজ সেবকের ভান ধরে অপকর্ম করলে সেটা বেমানান। ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ  আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদকের বোতলে হোমিওপ্যাথি ওষুধের লেভেল লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা করে আসছেন বকুল সরকার। তবে এর সাথে আরো অনেকেই থাকতে পারে। কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত শেষে সম্পৃক্ততা পেলে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন,  মাদকসহ আটক সিদ্দিক ও সুজাতের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দেওয়া হয়েছে।  আর বকুলের বিরুদ্ধে  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মামলা দেওয়া হয়েছে।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক বলেন, মামলা দেওয়ার পর বকুল চন্দ্র সরকারকে আজ রবিবার দুপুরে  আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমান বাংলাদেশ

Link copied!