মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর বিএনপির ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি এবাদুর রহমান এবাদের বিরুদ্ধে একজন লিজ গ্রহীতার স্বত্ব মামলায় আদালতের স্থিতাবস্থা জারিকৃত রেলওয়ের ভূমি জবর-দখল করে মার্কেট নির্মাণের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
লিজ গ্রহীতার সঙ্গে সমঝোতা করে ২০২৪ সালের শুরুতে সরকারি কয়েক লাখ টাকা বরাদ্দে ওই রেলওয়ের ভূমি ভরাট করে সবজি বাজার স্থানান্তর করেন পৌর মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী। চব্বিশ পরবর্তী সময় থেকে মেয়র কামরান না থাকায় বিএনপির প্রভাব দেখিয়ে অন্তত ১০ কোটি টাকার রেলওয়ের ভূমি জবর-দখলের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এর আগে ২০২৫ সালে একই কায়দায় আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে তিনি ও তার সহযোগীরা রেলওয়ের ভূমির আরেক লিজ গ্রহীতা সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নানের লিজকৃত ৫১ শতক ভূমি জবর-দখল করে টিনশেড ঘর নির্মাণ ও গাছপালা রোপণ করেন। এ ব্যাপারে লিজ গ্রহীতার ছেলে মঞ্জুরুল হান্নান আদালতে পিটিশিন মামলা (নম্বর-০৯/২৫) করলে আদালত ওই ভূমির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন।
সরেজমিন ও ভোক্তভোগী বড়লেখা পৌরশহরের বারইগ্রাম এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী করিমা পারভীনের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বড়লেখা রেলস্টেশনের পশ্চিম-উত্তর দিকের সরকারি খাদ্যগুদামের পশ্চিমের জেএল নং-৬৮, দাগ নং-৩২৫ এর ৪৬ শতক রেলওয়ের ভূমি তার বাবা আব্দুল মতিন কৃষি লিজ নিয়ে ভোগাধিকার করছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর ওই ভূমি তার ভোগাধিকারে ছিল; কিন্তু হঠাৎ বারইগ্রামের মৃত ফরিজ আলীর ছেলে এবাদ লিজের ভূমি জবদখলের পাঁয়তারা চালালে তিনি তার বিরুদ্ধে স্বত্ব মামলা করেন। মামলা চলমান অবস্থায় ২০২৪ সালের শুরুতে পৌর মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী ওই ভূমিতে পৌরসভার সবজি বাজার স্থানান্তরের প্রস্তাব দিলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতিসাপেক্ষে তিনি তাতে রাজি হন। এরপর পৌর কর্তৃপক্ষ ওই নিচু ভূমিতে সরকারি প্রকল্পে কয়েক লাখ টাকার মাটি ভরাট করে সবজি বাজার চালু করেন।
ওই বছরের ৮ মার্চ প্রধান অতিথি হিসেবে তৎকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন সবজি বাজারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট পটপরিবর্তনে পৌর মেয়র আত্মগোপন করায় তা জবর-দখলের পাঁয়তারা চালান এবাদ ও তার সহযোগীরা। একপর্যায়ে তিনি মাটি ভরাট ও দোকান তৈরির মালামাল মজুত করতে থাকেন।
করিমা পারভীন জানান, তার বাবা মৃত আব্দুল মন্নান ওই ৪৬ শতাংশ ভূমি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৯৯ বছরের স্থায়ী কৃষি লিজ নেন। ৫০-৬০ বছর ধরে ওই ভূমি তাদের দখলে রয়েছে। তারা বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি ভোগাধিকার করেন। এবাদ ওই ভূমি জবর-দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। চব্বিশ পরবর্তী লিজের ভূমি পুনরায় জবর-দখলের অপচেষ্টা চালায়।
তিনি বলেন, ২৫ জানুয়ারি ঘর তৈরি করতে গেলে আমি তাকে বাধা দিলে সে ও তার দলবল আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে।
এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা এবাদ জানান, এই ভূমি তার মৌরসি। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা চলমান এবং স্থিতাবস্থা জারি রয়েছে।
স্থিতাবস্থা জারি অবস্থায় কেনো ওই ভূমিতে দোকানঘর তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং ইতোপূর্বে আরেক লিজ গ্রহীতা আব্দুল হান্নানের ভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ রোপণ করে জবর-দখল করলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রেল বিভাগ ও থানা পুলিশ বাধা দেওয়ায় আমি আর কোনো কাজ করিনি।

আপনার মতামত লিখুন :