মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান প্রশাসনের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, গাফিলতি ও অবহেলা তিনি অত্যন্ত সিরিয়াসভাবে নেন এবং এ বিষয়ে তার অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। এমপির নাম ব্যবহার করে কেউ যেন অন্যায়ভাবে সুযোগ না নেয়—সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, তদবির বাণিজ্যের কোনো সুযোগ নেই। উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। বক্তব্য দেন জেলা পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এম নাসের রহমান বলেন, সতেরো বছরের আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসককে উৎখাত করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। তিনি বলেন, “জনগণ নির্বাচন করে ফ্রি এন্ড ফেয়ার নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসছে। ফ্রি এন্ড ফেয়ার নির্বাচন হলে বিএনপি সব সময় জিতবে। আওয়ামী লীগ জিততে পারবে না বলেই এধরণের নির্বাচনের নাটক করে করে করে ক্ষমতা দখল করে বসেছিল।” তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নতুন কার্যক্রম শুরু করেছেন। “আপনারা দেখতেছেন টোটালি ডিফরেন্ট, উনি প্রধান মন্ত্রী ফ্ল্যাগই উড়ান না গাড়িতে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজ অত্যন্ত গতির সঙ্গে সম্পন্ন হবে এবং আগে যেরকম ফাইল বন্ধ হয়ে বসে থাকা বা কোনো অ্যাকশন না নেওয়ার প্রবণতা ছিল, সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
নিজেকে ‘স্টেট ফরওয়ার্ড’ মানুষ উল্লেখ করে এমপি বলেন, “আমার যা বলার আপনাকে বলে দেব মুখের মধ্যে। অনেক সময় একটু হোল্ড করবো আপনি যাতে অ্যাম্বারেস না হন।” গাফিলতি ও অবহেলা তিনি অত্যন্ত সিরিয়াসভাবে নেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, কর্মকর্তারা যার যার মতো কাজ করবেন; তিনি অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করবেন না। তবে উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে এলজিইডি, রোডসের ইঞ্জিনিয়ার, তত্ত্বাবধায়ক ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জরুরি। জনগণের উন্নয়ন ও প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনীয় ফান্ডিংয়ের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “তালি তো এক হাতে বাজবে না। আপনাদের সবাইকে সিনক্রোনাইজড ওয়েতে থাকতে হবে।”
গত টার্মে আড়াইশ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান মূল্যে তা প্রায় হাজার ১২শ’ কোটি টাকার সমপরিমাণ। সে সময় মৌলভীবাজার-রাজনগরে শিল্পকলা একাডেমি, সদর হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছু ইকুইপমেন্ট গ্রেটার ফরিদপুরের বিভিন্ন জায়গায় চলে যায়। তিনি বলেন, “আমরা ওই জিনিসটাকে রিভাইভ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নে এ জেলাকে এগিয়ে নিতে চান এবং কর্মকর্তাদের অর্জনের সুযোগ করে দিতে চান। “আপনারা ক্রেডিট নেন, আমার কোনো অসুবিধে নেই। আমার কাজ হয়ে যাওয়ার দরকার।”
প্রশাসনে এমপির নাম ভাঙিয়ে কেউ ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান। “আমি এমপি সাবের লোক”—এভাবে পরিচয় দিয়ে কোনো অন্যায় সুযোগ নেওয়ার বিন্দুমাত্র স্কোপ নেই বলে সতর্ক করেন তিনি। নিয়মের বাইরে কোনো প্রস্তাব দেবেন না এবং অযাচিত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করবেন না বলেও উল্লেখ করেন।
শহরের যানজট নিরসনে কুসুমবাগ পয়েন্টে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ, ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার এবং সড়ক দখলমুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন :