সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউপি সদস্য মো, রহিছ মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক টি আর প্রকল্পে কাজ না করেই ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত বছরের জুনে কাগজে-কলমে ওইসব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে মূলত কাজ না করে একাধিক প্রকল্পের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন পাইকুরাটি ইউনিয়নের ৩ নাম্বার ওর্য়াডের সদস্য মো. রহিছ মিয়া।
২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের অধীনে থাকা ওই প্রকল্প দুটি হচ্ছে ওই ইউপির ভাটগাও কান্দা হইতে গনি সরকারের খেত পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাট (বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা), ভাটগাও গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্প হইতে খাল পর্যন্ত মাটি ভরাট (বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ) বরাদ্দ দেওয়া হয়।
উক্ত দুইটি প্রকল্পের সভাপতি করা হয় ইউপি সদস্য রহিছ মিয়াকে। কিন্তু প্রকল্প দুটির সভাপতি রহিছ মিয়া প্রকল্প এলাকায় কোনো রকম মাটি না কেটেই তিনি দুটি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত সাকুল্য টাকাই উত্তোলন করে তা আত্মসাত করেন তিনি।
এ ছাড়াও ইউপি সদস্য রহিছ মিয়াকে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে একই ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের কদর খাঁ`র বাড়ির সামনে হইতে জাহাঙ্গীরের জমি পর্যন্ত রাস্তায় বক্স কালভার্ট নির্মাণের জন্য আরও ২লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। উক্ত কালভার্ট নির্মাণ কাজেও নিম্নমানের কাজ করে তিনি বরাদ্দকৃত অর্ধেক টাকা উত্তোলন করে নেন। প্রকল্পের বরাদ্দকৃত বাকি টাকা উত্তোলন করে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে ঘুরাঘুরি করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই প্রকল্পের কালভার্ট নির্মাণ কাজে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রকল্প সভাপতি রহিছ মিয়া ৫০-৬০ হাজার টাকা খরছ করে যেনতেনভাবে কালভার্ট নির্মাণ করে বাকি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করার পাঁয়তারা করছেন।
এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত জুনে ওই দুই প্রকল্পের পুরো টাকাই উত্তোলন করেছেন প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য মো, রহিছ মিয়া।
স্থানীয় বাসিন্দা মৌলা মিয়া, জিয়াউর রহমান ও এখলাসুর রহমানসহ অনেকেই জানান, ওই রাস্তা দুটি আগে যেরকম ছিল, এখনও সেরকমই রয়েছে। কোনো কাজ হয়নি। এ রাস্তায় যে প্রকল্প আছে তা আমরা জানিও না। রাস্তায় কোনো কাজ না করেই ওই দুটি প্রকল্পের সাকুল্য টাকাই তুলে নিয়েছে ইউপি সদস্য রহিছ মিয়া!”
বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো, রহিছ মিয়া বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, ওই দুইটি প্রকল্প গত অর্থ বছরের, কিন্ত আপনি তা এখন জানতে চান কেন? আপনার সমস্যা কি বলেন? কাজ করলে করলাম না করলে নাই এতে আপনার কি সমস্যা?। পরবর্তিতে এ প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের উত্তরের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ভাই আপনার দ্বারা আমার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, প্লিজ। পরে এসে আপনার সাথে দেখা করবো বলেও তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।
উপজেলার পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, আমার জানা মতে ইউপি সদস্য রহিছ মিয়া কোন কাজ করে নাই। কাজ না করার পরে অফিস কিভাবে বিল দিয়ে দিল বিষয়টা আমাকে ভাবাচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমি যতটুকু জানি এখানে আসার আগে ওই কাজের বিল দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, কাজ না করে টাকা উত্তোলন করার কোন সুযোগ নাই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জন্য ইউএনও`কে নির্দেশ দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :