বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় পবিত্র রজমান মাসে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে গরুর মাংস। আদমদিঘী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাম নির্ধারণ না করে দেওয়ায় খুচরা বাজারে গলা কাটা যাচ্ছে।
প্রতি কেজি গরুর মাংস কোথাও কোথাও ৮০০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাজারে দেখা যায়, ৮ টি দোকানের মধ্যে একটিতেও মূল্য তালিকা টাঙানো নেই। বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম হাঁকাচ্ছেন। হাড়সহ গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, হাড় ছাড়া (সলিড) মাংসের দাম ১০০০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এবং গরুর ভুরি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সান্তাহারের স্হানীয় ক্রেতা সোহেল রানা বলেন-প্রশাসনের নজরদারি না থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ চাইলেও মাংশ কিনে খেতে পারছে না । আমরা সান্তাহার বাসী গত দুই বৎসর যাবৎ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন অভিযান পরিচালনা দেখিনি।
দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে সান্তাহার পৌর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও পৌর আওয়ামী-লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার গরু কিনে দেন না, আমাদের গরু আমরা কিনি আমরা বিক্রি করি আর উপজেলা প্রশাসন বা পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। গত ১৯ (ফেব্রুয়ারি) থেকে কোন বাজার মনিটরিং টিম সরজমিনে আসেনি , আমাদের উপর চাপাচাপি করলে আমরা দোকান বন্ধ করে দিবো ।পার্শ্ববর্তী তিলকপুর, চৌমহনী, আদমদিঘী বা দুপচাঁচিয়ার কথা বলতেই তিনি বলেন আমরা উন্নত গরু জবাই করি তাই আমাদের এখানে মাংসের দাম বেশি।
এ বিষয়ে আদমদিঘী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম জানান,আমাদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং হচ্ছে। সান্তাহারে পরশু দিনও অতিরিক্ত মূল্য এবং মূল্যতালিকা না থাকায় মোবাইল কোর্ট করা হয়েছে। গরুর মাংসের বিষয়ে তিনি আলাদা কোন মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে ৬৫০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রির উদ্যোগ থাকলেও আদমদিঘীতে সাধারণ খুচরা বাজারগুলোতে এর কোনো প্রভাব এখনও পরিলক্ষিত হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :