মৌলভীবাজার রাজনগরে সন্তান প্রসবের সময় হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়ায় এক গৃহবধূর করুণ মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক সব তথ্য। এব্যাপারে রাজনগর থানায় মৃত সায়েদা বেগমের (২৮) বড় ভাই মিতাউল আলম বাদী হয়ে এটি পরিকল্পিত হত্যা বলে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ,শুক্রবার (৩০ জানুয়ারী) রাজনগর উপজেলার রামভদ্রপুর(পাইকপড়া) মুজাহিদুর রহমান লাভলুর স্ত্রী সায়েদা বেগমকে পরিকল্পিত ভাবে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে মা ও নবজাতককে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছকৃত ভুল সিদ্ধান্তে নবজাতকের মাতৃগর্ভে মারা যায়। নিহতের পরিবার সুত্রে জানাযায়, প্রসব বেদনা ওঠার পর দীর্ঘ দুই-তিন দিন ধরে সায়েদা বেগমকে ঘরেই আটকে রাখা হয়। উন্নত চিকিৎসার পরিবর্তে শ্বশুরবাড়ির লোকজন অদক্ষ দাই দিয়ে প্রসব করানোর চেষ্টা চালায়। তাদের এই হঠকারী ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দীর্ঘ যন্ত্রণার পর সায়েদা বেগম একটি মৃত পুত্র সন্তান প্রসব করেন। অভিযোগ উঠেছে, সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিলে নবজাতক ও মাকে বাঁচানো সম্ভব হতো।
মৃত সায়েদার পিতা মো. মনতাজ আলী জানান, ৩০ জানুয়ারি রাতে মেয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে তিনি বারবার জামাই ও তার পরিবারের হাতে-পায়ে ধরে অনুরোধ করেন তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য। আমি চিৎকার করে বলেছি আমার মেয়েটাকে বাঁচান। ওকে দ্রুত মেডিকেলে নিয়ে যান। কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি। উল্টো তারা আমার ও আমার স্ত্রীর ওপর চড়াও হয় এবং আমাদের মারধর করে হাসপাতালে নিতে বাধা প্রদান করে।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও বিনাচিকিৎসায় ঘরে ফেলে রাখায় মৃত সন্তান প্রসবের পর সায়েদা বেগমের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একপর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত সায়েদা বেগমের চাচা আহাদ আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়। যখন একজন বাবা উপস্থিত থেকে মেয়েকে হাসপাতালে নিতে চাইলেন এবং তাকে মারধর করে বাধা দেওয়া হলো। তখন এটি স্পষ্ট যে তারা সায়েদাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করতে চেয়েছিল।
এই ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (মামলা নং ৩০/২৬) দায়ের করা হয়েছে। তবে নিহতের পরিবার এটিকে `পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড` হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
রাজনগর থানা অফিসার ইনচার্জ মো: মোবারক হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :