গাজীপুরের শ্রীপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি ও শ্রীপুর থানা পুলিশের দুটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারের পর থানায় নেওয়ার পথে দফায় দফায় পুলিশের গাড়িতে হামলা, ধস্তাধস্তি ও হাতকড়া সহ আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।এ ঘটনায় তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(২৮ আগস্ট) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার শ্রীপুর সদরের টেংরা রাস্তার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ছিনিয়ে নেওয়া ওই সন্ত্রাসীর নাম শেখ মামুন আল মুজাহিদ সুমন (৩৪)। তিনি উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পাঠানটেক এলাকার মোসলেম উদ্দিন মাস্টারের ছেলে। সুমনের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ ডজন খানেক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কাওরাইদ ইউনিয়নের ত্রিমোহনী এলাকায় তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও শ্রীপুর থানা পুলিশের আলাদা দুইটি দল সেখানে অভিযান চালান। সেখান থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে থানায় নেওয়ার পথে শ্রীপুর বাসস্ট্যাণ্ডসংলগ্ন টেংরা সড়কমোড় এলাকায় পৌঁছার পর ১৫ থেকে ২০টি মোটর সাইকেলযোগে আসা ৪০ থেকে ৫০ জন সহযোগী পুলিশের গাড়ির গতিরোধ করে। সেখানে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে থানার এএসআই শহিদুল ইসলামকে মারধর করে হাতকড়াসহ সুমনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাঁর সহযোগীরা।
থানা সূত্র আরো জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও শ্রীপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আসামির লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরমী বাজার এলাকার এক ব্যক্তি জানান, সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংশ্লিষ্টতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত। তার এক ভাই সহ এই কাজে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ পুরো সক্রিয়। এর আগে কয়েকবার সুমন বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন।
এ বিষয়ে জানতে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন,আসামিকে গ্রেপ্তারের পর থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশের গাড়ি গতিরোধ করে হামলা চালিয়ে হাতকড়া সহ আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে সহযোগীরা। আমরা আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছি।
আপনার মতামত লিখুন :