মৌলভীবাজার- রাজনগর-৩ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বশরীরে ভোটা দিতে দেশে এসেছেন অনেক প্রবাসীরা। দেশের বাহিরে যারা প্রবাসীরা ছিলেন ১৭ বছর দীর্ঘ দিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এছাড়াও জেলায় ২৩ হাজারের বেশী প্রবাসী পোষ্টাল ভোটের জন্য রেজিষ্টেশন করছিলেন।
প্রবাসে বসবাস করলেও দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে প্রবাসীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও সন্তুষ্টির আমেজ।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের অংশগ্রহণে এবারের নির্বাচনে ভোটের হার বেড়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট ও গণভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানানো হয়। “প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের অংশগ্রহণে এবারের নির্বাচন আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল হয়েছে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।”
জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলা মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও রাজনগরের অসংখ্য প্রবাসী ভোটার নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
সরেজমিনে আলী আমজদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায়, সদরের জগৎসী এলাকার প্রবাসী আব্দুল মুকিদ ১৭ বছর পর স্বশরীরে দেশ এসে নিজ ভোট কেন্দ্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ও গণভোট দিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তার ধারনা দেশে কোন সুষ্ট নির্বাচনীয় পরিবেশ ছিলনা। তাই নির্বাচনের সময় দেশে আসেননি তিনি। ২০২৬ইং অন্ত:বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে অনুষ্টিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সুষ্ট নির্বাচনীয় পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় দেশে আসেন। এই ভাবে অনেক প্রবাসী দেশে এসেছেন শুধু নির্বাচনে স্বশরীরে ভোট প্রদান করতে।
প্রবাসীদের অনেকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশের নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় তারা বঞ্চিত ছিলেন। এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে তারা আনন্দিত ও গর্বিত। যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মৌলভীবাজারের প্রবাসীরা ভোট ও গণভোটে অংশ নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
লন্ডন প্রবাসী মৌলভীবাজার সদরের জগৎসী এলাকার বাসিন্ধা আব্দুল মুকিদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বশরীরে ভোট প্রদান করার বিষয় অনুভুতি প্রকাশ করে বলেন, আমি শুধু ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে দেশে আসি। নির্বাচনী সুষ্ট পরিবেশে আলী আমজদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট প্রয়োগ করলাম। আমার খুব ভাল আগছে। আমি প্রবাসীদেরে অনুরোধ করবো, আপনারা পোষ্টার ব্যালটে ভোট প্রয়োগ না করে স্বশরীরে এসে ভোট দিল আলাদা আনন্দ পাবেন। তাই আগামীতে স্বশরীরে ভোট দিতে আসবেন।
মৌলভীবাজার রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, কোন সহিংসতা ছাড়া শান্তিপুর্ন পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গনভোট শেষ হয়েছে। ভোটাররা তাদের পচ্ছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারের প্রবাসীরা ভোট ও গণভোটে অংশগ্রহণ করতে পেরে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। “প্রবাসীরা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাদের এই অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

আপনার মতামত লিখুন :