আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মোট ২২৩টি কেন্দ্র। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৮০টি ও ঝুঁকিপূর্ণ ১৪৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। মৌলভীবাজারের চারটি আসনে ৫৫৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব কেন্দ্রে অতীতের সহিংসতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রভাবশালী মহলের সক্রিয়তার কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে ভোটারদের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা আতঙ্ক না থাকে, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এমন আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের একটি বড় অংশকে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। স্বাভাবিক ৩৩১টি কেন্দ্র রয়েছে। যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, এসব কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং স্থানীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র্যাব মোতায়েনের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ টহল জোরদার করা হবে। এছাড়া নির্বাচন পূর্ববর্তী ও নির্বাচন দিবসে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় কথা বলে জানা যায়, অনেক ভোটার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
জেলার এক ভোটার বিকাশ দাশ জানান “আমরা চাই নির্ভয়ে ভোট দিতে। আগে কয়েকবার গোলমাল হয়েছিল, তাই ভয় কাজ করছে। তবে পুলিশ ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে সমস্যা হবে না।”
এক নারী ভোটার সুমি বেগম বলেন, “ভোট আমাদের অধিকার। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হলেও যদি নিরাপত্তা থাকে, তাহলে আমরা ভোট দিতে যাব।”
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, “জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থার মোট ১১ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের গুজবে কান না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মৌলভীবাজার রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি, কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরদার থাকবে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ ভোটারদের আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :