ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চার আসনে চূড়ান্ত লড়াই: মৌলভীবাজারে কার দখলে যাবে বিজয়?

মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১১:১৩ পিএম

চার আসনে চূড়ান্ত লড়াই: মৌলভীবাজারে কার দখলে যাবে বিজয়?

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে জমে উঠেছে চূড়ান্ত লড়াই। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ প্রান্তে এসে প্রার্থী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক কৌতূহল শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে বাজবে বিজয়ের শেষ বাঁশি। প্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের নজর কাড়ছেন তাদের স্বজনরা। মৌলভীবাজার-৪টি আসনে বলা যায় শুধু প্রার্থীরা-ই গণসংযোগ-প্রচারণায় নয় বরং প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় তাঁদের স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের আন্যান্য সদস্যরাও এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে তাঁরা ভোট প্রার্থনা করছেন। তাঁদের কাছে পেয়ে খুশি ভোটাররাও।
মৌলভীবাজার-১, ২, ৩ ও ৪ সব আসনেই এই চার আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও জোট প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় থাকায় ভোটের হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে ৬ জন, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে ৮ জন, মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে ৪ জন এবং মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ৬ জন সহ মোট ২৪ জন প্রার্থী ভোটের যুদ্ধে রয়েছেন। ৫ আগস্টের সফল গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর রাজনীতিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় দুই যুগের মধ্যে এবারই প্রথম নতুন প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্ধিতা হচ্ছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এমপি, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে, ২০২৪ এ ড্যামি ভোট হওয়াতে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি।
মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় মোট ভোটার ১৬লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৪ জন। নারী ভোটার ৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৭৪ জন। হিজরা রয়েছেন ৮ জন।
নির্বাচনী মাঠে সরব প্রচারণা, উঠান বৈঠক, পথসভা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার সব মিলিয়ে নির্বাচনী আমেজ এখন তুঙ্গে। তবে অনেক এলাকায় পোস্টার ও ব্যানার কম দেখা গেলেও প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সমর্থকদের সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। নির্বাচনী প্রচারণা এখনো সীমিত থাকলেও দলীয় হিসাব-নিকাশ, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং স্থানীয় ইস্যু নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তাদের ভোটব্যাংক নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ।  সব মিলিয়ে, মৌলভীবাজারের চার আসনেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা থাকছে, আর ফল নির্ভর করবে ভোটার উপস্থিতি ও শেষ সময়ের কৌশলের ওপর।
এদিকে মৌলভীবাজার-৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আহমদ বিলালকে সমর্থন না করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নানকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা কমিটি। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির জেলা নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমর্থনের ঘোষণা দেন।
সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, চা শ্রমিকদের অধিকার, রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্যসেবা—এই বিষয়গুলোই এবারের ভোটে প্রধান বিবেচ্য। কেউ কেউ আবার বলছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বদলে দিতে পারে এবারের নির্বাচন।
চা বাগান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে নতুন ও তরুণ ভোটারদের ভোটও ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে মৌলভীবাজারের চারটি আসনেই কে হাসবে শেষ হাসি, কার জয়ে বাজবে শেষ বাঁশি—তা জানতে এখন চোখ রাখতে হচ্ছে ভোটের দিন ও ফলাফলের দিকেই।

বর্তমান বাংলাদেশ

Link copied!