ঢাকা রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫

সাড়ে ৪ ঘন্টা গণনা শেষে পূর্বের সকল রেকর্ড ভেঙে পাগলা মসজিদের ৩২ বস্তায় মিললো রেকর্ড ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা,এখনো চলছে গণনা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫, ০২:৩২ পিএম

সাড়ে ৪ ঘন্টা গণনা শেষে পূর্বের সকল রেকর্ড ভেঙে  পাগলা মসজিদের ৩২ বস্তায় মিললো রেকর্ড ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা,এখনো চলছে গণনা

ছবি: বর্তমান বাংলাদেশ।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দান সিন্দুক থেকে পাওয়া ৩২ বস্তা টাকা গণনায় সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। চার মাস ১৭ দিন পর মসজিদের ১৩ টি দান সিন্ধুক খুলে মিলেছে ৩২ বস্তা টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা।

শনিবার (৩০ আগষ্ট)  সকাল সোয়া ৭ টায় সিন্ধুক খোলে মসজিদের দ্বিতীয় তলার মেঝেতে সকাল সাড়ে ৮ টায় শুরু হয়েছে গণনার কাজ। দুপুর ১ টা পর্যন্ত গণনা করা হয়েছে ৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।

রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ আলী হারেছী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুর ১ টা পর্যন্ত গণনায় ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছে। মসজিদের একাউন্টে জমা করার জন্য এ টাকাগুলো রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখায় পাঠানো হয়েছে। এখন চলছে গণনার কাজ। এতে প্রায় ৫০০ জনের একটি দল অংশ নিয়েছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

এর আগে, গত (১২ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১১ টি দানবাক্স থেকে রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে। প্রায় ৯ ঘণ্টায় ৪০০ জনের একটি দল এ টাকা গণনার কাজ করেন। সঙ্গে ছিল স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা, এমনকি রুপার অলংকারও।

ঐতিহাসিক এ মসজিদের দানবাক্সে একসঙ্গে এত টাকা পাওয়াটা তখন ছিল নতুন রেকর্ড। এবার সে রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মসজিদটিতে নিয়মিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অসংখ্য মানুষ।

এর আগে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর দান সিন্ধুক খোলা হয়েছিল। তখন ২৯ বস্তা টাকা পাওয়া যায়, আর গণনা শেষে তখন রেকর্ড ভেঙে এক অভাবনীয় অঙ্ক ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৪ টাকা সংগ্রহ হয়েছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টায় ৪০০ জনের একটি দল এ টাকা গণনার কাজ করেন। সঙ্গে ছিল স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা, এমনকি রুপার অলংকারও পাওয়া যায়।

মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সোয়া ৭ টার দিকে জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের তেরোটি দান দানবাক্স দ খোলা হয়েছে। দান দানবাক্সগুলো খুলে ৩২ টি বস্তায় ভরে টাকাগুলো মসজিদের দোতলায় আনা হয়েছে গণনার জন্য। এখন চলছে টাকা গণনার কাজ।

জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরের ঐতিহাসিক এই মসজিদে তেরো টি দানসিন্ধুক রয়েছে।প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর এই সিন্ধুক খোলা হয়।

জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান ঢাকা পোস্টকে জানান, আপনারা জানেন কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অন্যতম একটি জায়গা। সকল ধর্মের মানুষ এখানে দান করে থাকেন। তাদের দানের অর্থ দিয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ কমপ্লেক্স করা হবে যেখানে একসাথে ৩০ হাজার মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটি তথ্যমতে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদে ১১ টি দানবাক্স থাকলেও এবার আরও দুইটি দানবাক্স বাড়ানো হয়েছে। দানের পরিমাণ বাড়ায় এখন পাগলা মসজিদের দানবাক্সের সংখ্যা ১৩ টি।

মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। এছাড়া করোনাকালে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককেও অনুদান দেওয়া হয়েছিল এ দানের টাকা থেকে।

পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানিয়েছে, ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। যার নামকরণ হবে "পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স" । এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। সেখানে ৩০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

 

বর্তমান বাংলাদেশ

Link copied!